সফটওয়্যার পাইরেসি কী এবং এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা দেখে নিন।

সফটওয়্যার পাইরেসি কী এবং এটা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা দেখে নিন।

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এমনই একটা অপারেটিং সিস্টেম যা সকল বাংলাদেশী মানুষ ডেস্কটপ অথবা ল্যাপটপে এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেন। হাতে গণনা করে হয়তো কিছু মানুষ মিলবে যারা অন্য অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে কিন্তু অর্ধেকেরও বেশী বাংলাদেশী মানুষ কিন্তু উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে এবং পছন্দ করে।


অবশ্য আমারও উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম অনেক প্রিয় কিন্তু সিকিউরিটির কথা মাথায় রেখে কালি লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি। আচ্ছা আপনি কী জানেন ২০০৮ইং অথবা ২০০৯ইং তে রিয়েল উইন্ডোজ এক্সপি কিনতে ঠিক কতো টাকা লাগতো; আচ্ছা না জানলেও কোনো সমস্যা নাই আমি বলে দিচ্ছি এই ধরুন সাত অথবা আট হাজার টাকা মতো লাগতো। আপনি হয়তো এখন ভাবছেন ডিভিডি এর দোকান থেকে মাত্র ত্রিশ টাকায় আপনি উইন্ডোজ এক্সপি আনতে পারবেন কিনে কিন্তু আমি সাত অথবা আট হাজার টাকা বললাম কেনো, হয়তো মজা করছি নইতো আপনাদের বোকা বানাচ্ছি। এইরকম ভাবনা যদি আপনি ভাবেন তাহলে সেটা সম্পূর্ণ ভূল কারণ রিয়েল উইন্ডোজ এক্সপি তখন দাম ছিলো সাত থেকে আট হাজার টাকা।

আচ্ছা আপনি কী জানেন সফটওয়্যার পাইরেসি কী, আচ্ছা এটাও না জানলে সমস্যা নাই কারণ আমি বলে দিচ্ছি আজকের টিউটোরিয়াল হলো আমাদের সফটওয়্যার পাইরেসি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। আপনি আপনার কম্পিউটার এ নোট এডিটর, ফটো এডিটর, ভিডিও এডিটর, কোড এডিটর ইত্যাদি এইগুলো আপনি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমেই হয়তো ফ্রিতে ব্যবহার করেন কিন্তু আপনি কী জানেন এই গুলো রিয়েল কোনো সফটওয়্যার কী; সফটওয়্যার পাইরেসি হলো লিগ্যাল কোনো সিকিউরিটি করা সফটওয়্যারকে চুরি করে বা অন্য কোনো সিস্টেম অনুযায়ী সিকিউরিটি বাইপাস করে ফ্রিতে ব্যবহার করাকে সফটওয়্যার পাইরেসি বলে।

এখন আপনি হয়তো ভাবছেন আপনার সফটওয়্যার গুলো পাইরেটেড কী বুঝবেন কীভাবে, আপনি যখন কোনো সফটওয়্যার কিনবেন তখন অবশ্যই ওই ডেভেলপার এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে কিনার চেষ্টা করবেন তাহলে হয়তো আপনি সফটওয়্যার পাইরেসি থেকে রক্ষা পাবেন কারণ ডেভেলপার ওয়েবসাইট এ আপনি রিয়েল সফটওয়্যার পাবেন কিন্তু অন্য ওয়েবসাইট গুলোতে পাইরেসি সফটওয়্যার সেল করে।

বেশীরভাগ সফটওয়্যার কেনার পরে সেটাকে অ্যাক্টিভ করার দরকার পরে। কিন্তু কোনো সফটওয়্যার কেনার পরে সেটার অ্যাক্টিভেশন প্রসেস যদি অনেক বড় হয়ে থাকে তাহলে বুঝবেন সফটওয়্যারটি হয়তো পাইরেটেড, আর আপনি হয়তো অ্যাক্টিভ না করে তলে তলে অ্যাক্টিভেশন প্রসেস বাইপাস করছেন।

আরও একটা কথা মনে রাখার বিষয় হলো আসল সফটওয়্যার অবশ্যই নিয়মিত আপডেট প্রদান করে এবং বেশীরভাগ কিনা সফটওয়্যার ফ্রিতে আপডেট প্রদান করে; আপনার কিনা সফটওয়্যারটি যদি আপডেট না চায় বা আপডেট করার পরে সফটওয়্যারটি আবার কিনতে বলে সেক্ষেত্রে সফটওয়্যারটি পাইরেটেড ভেবে নিতে পারেন।

অনেক মানুষ হয়তো টাকা দিয়ে সফটওয়্যার কিনে ব্যবহার করতে চাই না, তারা জানে না অথবা বুঝার চেষ্টাও করে না এতো দামী সফটওয়্যার গুলো কেনো ফ্রি তে একটা ওয়েবসাইট আপনাকে দিচ্ছে, আপনি কী আমাকে সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারবেন; হয়তো কখনো না।

আপনি কী জানেন বেশীরভাগ পাইরেটেড সফটওয়্যার গুলোতে ম্যালওয়্যার এবং হ্যাকিং টুলস ইনজেক্ট করা থাকে; যা থেকে আপনার অনেক বড় বড় রকমের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। হ্যাক হয়ে যেতে পারে আপনার কম্পিউটার হ্যাক হয়ে যেতে পারে আপনার ভার্চুয়াল এর সকল একাউন্টস আপনার কম্পিউটার এ থাকা সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে হ্যাকার, যা আপনি এতো খারাপ কিছু কল্পনা করতেও সক্ষম হবেন না।

সফটওয়্যার পাইরেসি একদম সম্পূর্ণ রূপে অবৈধ জিনিস, আমি সঠিক জানি না আপনি এটা বিশ্বাস করবেন কী; বাট সফটওয়্যার পাইরেসি করবো না বলেই লিনাক্স নির্ভর অপারেটিং সিস্টেম আর ওপেন সোর্স ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করি। এটা অবৈধ বলে ব্যবহার করি না এমন টাও না এটা ব্যবহার করা সম্পূর্ণ রূপে অনিরাপদ বড় রকমের ক্ষতির সম্মুখে যেতে হবে বলেই ত্যাগ করেছি, আশা করবো আপনারাও সফটওয়্যার পাইরেসি থেকে বিরত থাকবেন আশা করি নিরাপদ থাকবেন তবে।

Newer Posts Older Posts

Related posts