কম্পিউটারের স্পিড ঠিক রাখার ৫ কৌশল

কম্পিউটারের স্পিড ঠিক রাখার ৫ কৌশল

যেকোনো ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র কিছুদিন ব্যবহার করার পরেই তার গতি কমতে শুরু করে। কম্পিউটারও তার ব্যতিক্রম নয়। একটি নতুন কম্পিউটার প্রথম দিকে যে দ্রুত গতিতে কাজ করে সময়ের সাথে সাথে তার সেই গতি অনেকখানি কমে যায়। এই গতি কমার পিছনে অনেক কারন আছে। কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া তার অন্যতম ও প্রায় প্রধান কারন।

তবে একেবারেই ছোট ও সামান্য কিছু কারন আছে যেগুলো আমরা অনায়াসেই আমাদের কাজের মধ্যে একটু অভ্যাস করে করতে পারলে কম্পিউটারের গতি কমে যাওয়া অনেকখানি রোধ করতে পারি।

কম্পিউটার এর গতি ধীর হয়ে যাওয়া সবার কাছেই খুব বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। সেটা অফিসেই হোক আর বাসায় নিজের ব্যক্তিগত কাজের সময়েই হোক। প্রথমত এটা এক ধরনের মানসিক অশান্তি তৈরি করে এছাড়া কাজটি করার জন্য যে পরিমাণ সময় লাগার কথা তার থেকেও অনেক বেশি সময় লাগছে।

বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে অনায়াসেই আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। তবে সবসময় আসলে যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা সম্ভব হয়না। কারন এর জন্য নতুন করে টাকা পয়সা খরচ করতে হয়।



আবার অনেক সময় টাকা থাকলেও যন্ত্র পাতি কেনার ও লাগানোর সময় পাওয়া যায়না। তাই যন্ত্রাংশ পরিবর্তন না করেও একেবারেই স্বাভাবিক কিছু কাজের মাধ্যমে কিভাবে কম্পিউটারের গতি ঠিক রাখা যায় সেটা নিয়ে আলাপ করবো।

১. কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখা

আমরা সবাই জানি যেকোনো ধরনের ভাইরাস এর আক্রমনের ফলে কম্পিউটারের গতি কমে যেতে পারে তাই সবসময় চেষ্টা করা উচিত কম্পিউটার টি ভাইরাস মুক্ত রাখা। তবে অনেক চেষ্টার পরেও কম্পিউটারকে সবসময় ভাইরাস মুক্ত রাখা সম্ভব হয়না। কারন আমাদের অনেক সময় বিভিন্ন রকম ফাইল দেয়া নেয়া করতে হয় যার কারনে অন্যের পেন ড্রাইভ ব্যবহার করতে হয়।

এছাড়া আমাদের সবার কম্পিউটারেই এখন ইন্টারনেট সংযোগ আছে। এই দুটি মাধ্যম থেকেই সাধারণত সব থেকে বেশি ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বর্তমানে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলে অনেক ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর অজান্তেই ডাউনলোড হয়ে যায়। তাই ভাইরাস থেকে বাচতে হলে আলাদা কিছু সতর্কতা নিতে হয়। যদিও Windows অপারেটিং সিস্টেমের Windows Defender অনেক ভাল কাজ করে তারপরেও বাড়তি সতর্কতা হিসেবে একটা থার্ড পার্টি ফ্রি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হবে এবং কোন পেন ড্রাইভ অথবা অন্য কোন মাধ্যমে ফাইল আদান প্রদান করার আগে ফাইল গুলো অবশ্যই স্ক্যান করে নিতে হবে।

আবার অন্যের পেন ড্রাইভ থেকে ফাইল নিলে সেটা সরাসরি ওপেন না করে ফোল্ডার থেকে ওপেন করা ভাল। কারন সরাসরি ওপেন করলে ফাইল এ ভাইরাস থাকলে সেটা খুব দ্রুত কম্পিউটার কে আক্রমণ করতে পারে।

২. Browsing history ও Cookies পরিষ্কার করা

বর্তমানে আমরা আগের তুলনায় অনেক বেশি ইন্টারনেট ব্রাউজিং করে থাকি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে পত্রিকা পড়া, ইন্টারনেটে কোন তথ্য অথবা ঠিকানা খুঁজে বের করা সহ অনেক রকমের কাজ করে থাকি। এই সমস্ত ব্রাউজিং এর তথ্য সব ব্রাউজারে জমা হয়ে থাকে। এর ফলে যেমন ব্যবহারকারীর লাভ আছে তেমনি আবার বিভিন্ন রকম বিজ্ঞাপন দানকারী প্রতিষ্ঠান যেমন ফেসবুক, গুগোল, অ্যামাজন এর মত টেক জায়ান্ট দের লাভ হয়।

এই সমস্ত হিস্টরি ব্রাউজারে জমা থাকার ফলে ব্যবহারকারী যদি একই রকম তথ্য পুনরায় খুঁজতে যান তাহলে সেটা সে অনেক সহজেই খুঁজে পায়। এছাড়া ব্রাউজার ও ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর তথ্য জমা থাকার ফলে বিজ্ঞাপন প্রদানকারি প্রতিষ্ঠান গুলো খুব সহজে তাদের পণ্যের সম্ভাব্য ক্রেতাকে খুঁজে পায়।

তবে সমস্যা হচ্ছে অনেক বেশি পরিমান তথ্য যদি ব্রাউজারে জমা হয়ে থাকে তাহলে ব্রাউজার স্লো হয়ে যায়। তাই নিয়মিত ব্রাউজিং এর ইতিহাস ও কুকিজ পরিষ্কার করলে গতি কিছুটা হলেও বাড়বে।

৩. Temporary ফাইল মুছে ফেলা

টেম্পোরারি ফাইল হচ্ছে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের মাধ্যমে তৈরি হওয়া কিছু জাংক ফাইল। অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অজান্তেই এই ফাইল গুলো কম্পিউটারে তৈরি করে থাকে। কম্পিউটারে যখনি কোন ফাইল ওপেন করা হয় কম্পিউটার প্রোগ্রাম তার একটি জাংক ফাইল তৈরি করে ফেলে এভাবে দিনে যতগুলো ফাইল ওপেন করা হয় কম্পিউটারে ততগুলো জাংক ফাইল তৈরি হয়ে থাকে। এই ফাইলের পরিমান বেশি হয়ে গেলেই কম্পিউটারের স্বাভাবিক গতি কমে যায়। তাই নিয়মিত এইগুলো পরিষ্কার করা উচিত।

এই কাজটি আপনি নিজে ম্যানুয়ালি করতে পারবেন আবার কোড দিয়েও করা যায়। আপনি যদি Windows 7 ব্যবহার করে থাকেন তাহলে স্টার্ট মেনু থেকে Run কমান্ডে যেয়ে %temp% লিখে ইন্টার চাপলে সমস্ত টেম্পোরারি ফাইল গুলো চলে আসবে। আপনি অনায়াসেই ফাইল গুলো মুছে দিতে পারবেন।

Windows8  ও 8.1 অপারেটিং সিস্টেমেও আপনাকে Run কমান্ড থেকে %temp% টাইপ করলে জাংক ফাইল গুলো চলে আসবে। আর Windows 10 অপারেটিং সিস্টেমের Cortana সার্চ বক্সে %temp% লিখে সার্চ দিলে চলে আসবে।

৪. Recycle Bin পরিষ্কার রাখা

সম্ভবত আমাদের কম্পিউটারের সব থেকে অবহেলিত অংশ হচ্ছে Recycle bin. কারন এটা হচ্ছে কম্পিউটারের ডাস্টবিন। আর আমরা এটাকে ডাস্টবিনের মতই ব্যবহার করে থাকি আমাদের কম্পিউটারের যেকোনো অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে দিলে সেটা Recycle bin এ গিয়ে জমা হয়ে থাকে। বাসাতে জমে থাকা ময়লা যেমন অনেক দিন ধরে পরিষ্কার না করলে সেটা থেকে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।

Recycle bin এ জমে থাকে ফাইল ও সেরকম দীর্ঘ দিন পরিষ্কার না করলে তার ফলে কম্পিউটার ধীর হয়ে যেতে পারে। কেননা Recycle bin এ জমে থাকা ফাইল গুলো হার্ড ড্রাইভ এর জায়গা দখল করে রাখে।

৫. অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার Uninstall করে ফেলা

উপরের সব গুলোর থেকে এইটা হচ্ছে সব থেকে কার্যকর উপায় কম্পিউটারের গতি ঠিক রাখার জন্য। আমরা অনেক সময় ছোট খাটো কোন কাজের জন্য টেম্পোরারি ভাবে কোন সফটওয়্যার ইন্সটল করে থাকি যেগুলো পরে আর কোন কাজে আসেনা। এইভাবে কম্পিউটারে অনেক অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার জমা হয়ে যায়। এই অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার গুলো কম্পিউটারের অনেক জায়গা ও যন্ত্রাংশের কর্মশক্তি দখল করে রাখে যার ফলে কম্পিউটারের গতি কমে যেতে বাধ্য।

তাই আজই দেখুন আপনার কম্পিউটারে কোন অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আছে কিনা থাকলে সেগুলো Uninstall করে ফেলুন। দেখবেন কম্পিউটারের গতি কিছুটা হলেও বাড়বে।

আপনি অনেক রকম ভাবেই কম্পিউটারের গতি বাড়াতে পারবেন। তবে কোন টাকা পয়সা খরচ না করে শুধুমাত্র উপরের এই অভ্যাস গুলো ধরে রাখতে পারলে কম্পিউটারের গতি কমে যাওয়া থেকে বেশ কিছুটা রক্ষা পাবেন।
Newer Posts Older Posts

Related posts