বাংলায় এ প্লাস পাওয়ার কার্যকরী কৌশল। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অবশ্যই দেখবেন।

বাংলায় এ প্লাস পাওয়ার কার্যকরী কৌশল। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অবশ্যই দেখবেন।

বাংলায় এ প্লাস পাওয়ার কার্যকরী কৌশল। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অবশ্যই দেখবেন।



আসসালামু আলাইকুম। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। আল্লাহর রহমতে আমিও ভালো আছি। বাংলায় এ প্লাস পাওয়া রীতিমতো একটি কষ্টের ব্যাপার। তার কারণ হচ্ছে বাংলা ১ম পত্র অর্থাৎ বাংলা সাহিত্যে এ প্লাস না পাওয়া। আর সাহিত্যে এ প্লাস না পাওয়ার নিশ্চিত কারণ হচ্ছে সৃজনশীলে নাম্বার কম পাওয়া। কিন্তু, আমরা যদি সাহিত্যে ৭০ বা তার থেকে একটু বেশি এবং ব্যাকরণ ও নির্মিতীতে ৯০ তুলতে পারি তাহলে কিন্তু আমাদের ১৬০ হয়ে যায়। আর আমরা যদি কিছু কৌশল অবলম্বন করি তাহলে কিন্তু বাংলা ২য় তে ৯০ পাওয়া সম্ভব। আজকের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে  বাংলায়  এ প্লাস পাওয়ার কার্যকরী কৌশল শেয়ার করবো যা অনুসরণ করলে ইনশাল্লাহ আপনি অল্প সময়ে পরীক্ষা দিয়ে বেশি নাম্বার পাবেন।

a+


এই পোস্ট টা বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য করা। তবে আপনি এসএসসি পরীক্ষার্থী হলেও চালিয়ে যেতে পারেন। চলুন শুরু করি।

মানবন্টন অনুযায়ী কৌশল ও বিশ্লেষণ:

১)বাংলা উচ্চারণের নিয়ম (৫):

এই প্রশ্নে কোনো নির্দিষ্ট ধ্বনি উচ্চারণের নিয়ম অথবা পাঁচটি শব্দের সঠিক উচ্চারণ লিখতে বলা হয়। এই প্রশ্নের জন্য আপনি বিগত ৪/৫ বছরের বোর্ড প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে নিবেন। কারণ, এই প্রশ্ন গুলো প্রতি বছর রিপিট করে। যেহেতু এই প্রশ্নের দুটি অপশনই আমার কাছে সমান মনে হয়, তাই কোনটি উত্তর করবেন তা আপনাদের সাজেস্ট করতে পারছি না। তবে যদি দুটিই কমন আসে তাহলে আপনি শেষোক্ত প্রশ্ন তথা সঠিক উচ্চারণ এর প্রশ্নটি উত্তর করবেন। কারণ, এটাতে ফুল মার্কস পাওয়া যায়। প্রথমটায় একটি উদাহরণ ভুল হওয়ার কারণে পরীক্ষক ১ নাম্বার কেটে দিতে পারেন।



২)বাংলা বানানের নিয়ম (৫):

এই প্রশ্নে নির্দিষ্ট বানানের ৫ টি নিয়ম অথবা পাঁচটি বানান শুদ্ধ করে লিখতে বলা হবে। আমি সাজেস্ট করবো বানান শুদ্ধ করে লিখা প্রশ্নটির উত্তর করা। কারণ হচ্ছে এই প্রশ্নটি আপনি ২ মিনিটে উত্তর করতে পারবেন এবং নাম্বারও পুরোটা পাবেন। আর বিগত ৪/৫ বছরের বোর্ড প্রশ্নগুলো একটু ভালো করে দেখে নিলেই আপনি এই প্রশ্নটির উত্তর করতে পারবেন। কারণ, এই প্রশ্নগুলোও আগেরটার মতো বছর বছর রিপিট করে।

৩)ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি (৫):

আগের মতো এই প্রশ্নেও একটি বর্ণনামূলক প্রশ্ন থাকবে এবং একটি অনুচ্ছেদ থেকে যেকোনো একটি ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি নির্বাচন থাকবে। নিঃসন্দেহে (খ) নাম্বার প্রশ্নটি উত্তর করবেন। কারণ, এই উত্তরটি আপনি ২/৩ মিনিটে উত্তর করতে পারবেন যেখানে প্রথমটির উত্তরে আপনাকে ১ পৃষ্ঠার মতো লিখতে হবে। তাছাড়া, ক নাম্বারে আপনি কম সময়ে ফুল মার্কস পাবেন। এই প্রশ্নটির উত্তরের জন্য বিগত কয়েক বছরের বোর্ড প্রশ্ন প্র্যাকটিসই যথেষ্ট।

৪)বাংলা শব্দগঠন (৫):

এটার জন্য আপনি বিগত বোর্ড প্রশ্নগুলো দেখে নিবেন। এর কোনো কৌশল আমার জানা নেই। তবে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন হচ্ছে- “উপসর্গের অর্থদ্যোতকতা আছে কিন্তু অর্থবাচকতা নেই।”

৫)বাক্যতত্ত্ব (৫):

এই প্রশ্নের জন্য আপনি (খ) নাম্বার প্রশ্ন অর্থাৎ বাক্য রূপান্তর প্রশ্নটির উত্তর করবেন। কারণ, বোর্ড প্রশ্ন পড়লে এই প্রশ্নটিও উত্তর করতে পারবেন এবং অল্প সময়ে ফুল মার্কস পাবেন।

৬)বাংলা ভাষার অপপ্রয়োগ ও শুদ্ধ প্রয়োগ (৫):

এ প্রশ্নের জন্য (ক) নাম্বার প্রশ্নটি উত্তর করবেন। কারণ, এটি তুলনামূলক সহজ। তবে ৬ নাম্বার প্রশ্নের দুটি অপশনই বোর্ড প্রশ্ন অনুসরণ করলেই হয়ে যাবে এবং এ দুটিতেই ফুল মার্কস পাওয়া যায়।

৭)পারিভাষিক শব্দ অথবা অনুবাদ (১০):

এটা সবাই ই পারিভাষিক শব্দ থেকেই দেয়। পারিভাষিক শব্দে সময় কম লাগে এবং ভুল হয়না বললেই চলে।

৮)দিনলিপি/অভিজ্ঞতা বর্ণনা অথবা ভাষণ/প্রতিবেদন রচনা (১০):

ভুলেও ভাষণ বা প্রতিবেদন লিখতে যাবেন না। বেশি লিখেও পর্যাপ্ত নাম্বার পাবেন না। অপরদিকে, দিনলিপি বা অভিজ্ঞতায় লিখা কম কিন্তু নাম্বার পাওয়া সহজ। একটু সুন্দর করে লিখবেন, এই আরকি!

৯)বৈদ্যুতিন চিঠি/ক্ষুদে বার্তা অথবা আবেদনপত্র/পত্রলিখন (১০):

বুঝতেই পারছেন এই প্রশ্নে আবেদনপত্র লিখাই অধিক যুক্তিযুক্ত। তবে বানানের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া চাই।

১০)সারাংশ/সারমর্ম অথবা ভাবসম্প্রসারণ (১০):

ভাব সম্প্রসারণে সময় বেশি লাগবে এবং লেখায় ভুল/কাটাকাটি হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। তাই সারাংশ/সারমর্ম থেকেই উত্তরটা করে নিবেন।

১১)সংলাপ অথবা ক্ষুদে গল্প রচনা (১০):

সুন্দর করে ২/৩ পৃষ্ঠার একটি সংলাপ মনের মাধুরী মিশিয়ে লিখে দিবেন। তবে চেষ্টা করবেন কথোপকথনের ধাপ বাড়াতে।

১২)প্রবন্ধ-রচনা (২০):

রচনা লেখার ক্ষেত্রে পয়েন্ট বেশি দেওয়ার চেষ্টা করবেন। যত বেশি পয়েন্ট তত বেশি নাম্বার। আর ১৫ পৃষ্ঠার কাছাকাছি লেখার চেষ্টা করবেন। যে টপিকের উপর আপনি বানিয়ে লিখতে পারবেন সে টপিক নির্বাচন করবেন। তাহলে ১২/১৩ পৃষ্ঠা লেখা কোনো ব্যাপারই হবে না।



তো এই ছিলো আজকের লেখা। এই কৌশলগুলো অনুসরণ করলে আশা করি বাংলায় এ প্লাস পেয়ে যাবেন।

(দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি আপনি ইন্টারনেটের কোথাও পাবেন না। এটি সম্পূর্ণ আমার নিজের লেখা। তাই কেউ কপি করবেন না প্লিজ।)
Newer Posts Older Posts

Related posts